পিকি ব্লাইন্ডারস- রিভিউ

“Take a little walk to the edge of town
Go across the tracks
Where the viaduct looms
Like a bird of doom….”

 

সময়টা বিশের দশকের গোড়ার দিকে।  এক জিপসি পরিবারের গল্প এটা। যে পরিবারের নাম শুনে এলাকার মানুষ  ভয়ে কাঁপবে কিছুদিন পর, সেই পরিবার কে কেন্দ্রে রেখেই,  আমাদের এই ‘পিকি ব্লাইন্ডারস’।

পরিবারটার পদবী শেলবি। এই শেলবি ফ্যামিলিরই কোম্পানি,  পিকি ব্লাইন্ডারস।

এখন, টিভি জগতের পিকি ব্লাইন্ডারস কে নিয়ে বলার আগে, বলি  বাস্তব জগতের পিকি ব্লাইন্ডারস কে নিয়ে।

হ্যাঁ, পর্দার পিকি ব্লাইন্ডারসের স্রষ্টা স্টিফেন নাইট নামটি নিয়েছিলেন আসল পিকি ব্লাইন্ডারস এর থেকেই।

স্মল হার্থ কে কেন্দ্র করে  ১৯ শতকের শেষ দিকে গড়ে উঠেছিল পিকি ব্লাইন্ডারস। প্রথমদিকে অবশ্য ছোটখাট ছিনতাই এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তখনো সংঘটিত অপরাধ দল হয়ে ওঠেনি।

ধীরে ধীরে, ওই ছোটখাট অপরাধে হাত পাকাতে থাকা বারো থেকে ত্রিশ বছরের মানুষগুলো অপরাধের মাত্রা বাড়াতে থাকে এবং গঠন করে ‘পিকি ব্লাইন্ডারস’।

আসল পিকি ব্লাইন্ডারস এর সবথেকে প্রভাবশালী যে ব্যক্তি, তার নাম টমাস গিলবার্ট। এই নামেরও মাহাত্ম্য আছে কিন্তু। সেটা পরে বলছি।

( বাস্তবের পিকি ব্লাইন্ডারস)

এখন পিকি ব্লাইন্ডারস নাম দেবার কারন কি?

এ নিয়ে অনেকে অনেক ব্যাখ্যা দেয়, তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় যেটা, সেটা বলি।

 

পিকি ব্লাইন্ডারস সদস্যদের সিগনেচার হ্যাট, যেই টুপির একদম শুরুতে বা ‘পিক’ এ রেজর ব্লেড সেলানো থাকতো এবং মুখোমুখি যুদ্ধে পিকি ব্লাইন্ডারসের সদস্যরা শত্রুর মুখে সেটি দিয়ে আঘাত করতো, যেটা শত্রুদের ব্লাইন্ড বা অন্ধ করে দিতো, যার কারনে এই গ্যাং এর নাম,  পিকি ব্লাইন্ডারস।

নামের কি এক্সাইটিং একটা গল্প, তাইনা?

উম, জনপ্রিয় হলেও এটা শুধুই একটা মিথ। এই ব্যাখার পিছনে কোন প্রমান নেই।

এখন, আসল পিকি ব্লাইন্ডারস এর দৌরাত্ম্য এর সময়কাল ছিল ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে।

কিন্তু, আমাদের এই টিভি সিরিজের পিকি ব্লাইন্ডারস এর উত্থান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর,  ২০ এর দশকের গোড়া থেকে।

ওইযে টমাস গিলবার্ট এর কথা বললাম একটু আগে, ওই নামের মতই,  টিভি সিরিজটায় পিকি ব্লাইন্ডার্সে সব থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি, টমাস শেলবি।

যদিও পদবী মিলেনি, কিন্তু গ্যাং এর মাঝে ভূমিকার দিক থেকে তো মিল আছে!

কিন্তু, সিরিজের আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব,  এই টমাস শেলবি কিন্তু টমাস গিলবার্টের ওপর নির্ভর করে বানানো হয় নি, হয়েছে, বিলি কিম্বার এর উপর নির্ভর করে।

যদিও বিলি কিম্বার,  যে কিনা ‘বার্মিংহাম বয়েজ’ নামক আরেক গ্যাং এর লিডার ছিল, এবং সিরিজে এই নামে আরেকটা চরিত্র ও আছে, কিন্তু বাস্তবের বিলি কিম্বার এর সাথে টিভির টমি শেলবির মিল অনেক বেশি।

(বিলি কিম্বার)

অবশ্যই পুরোপুরি ইতিহাস মেনে চলেননি স্টিফেন নাইট, এই সিরিজের স্রষ্টা।

কিন্তু,  ১৯২০ এর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের সমসাময়িক সময়ের বিভিন্ন দিক সুচারুভাবে উঠে এসেছে পিকি ব্লাইন্ডারসে।

তো,  সিরিজের প্রধান চরিত্র, টমাস শেলবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে আসে, তার দুই ভাই, আর্থার শেলবি এবং জন শেলবির সাথে।

যুদ্ধের আগে কম্যুনিজমে বিশ্বাসী টমি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে পালটে যায়, পালটে যায় তার দৃষ্টিভঙ্গি।

ক্ষমতার জন্য টমাস তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে, গড়ে তোলে শেলবি কোম্পানি লিমিটেড।

এমনই ক্ষমতা হয়ে যায় এই পিকি ব্লাইন্ডারসের, স্মল হার্থে পিকি ব্লাইন্ডারসের নাম শুনলেই রাস্তা ছেড়ে দেয়, এই অবস্থা।

কিন্তু ক্ষমতা যদি একচেটিয়া করতে হয়, প্রভাব ছড়িয়ে দিতে হলে পিকি ব্লাইন্ডারস কে মুখোমুখি হতে ইটালিয়ান স্যাবাইনি গ্যাং এর, বার্মিংহাম বয়েজ এর,  ইটালিয়ান মাফিয়া… এরকম বেশ কিছু শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, যাদের জন্য এই সিরিজটা ভীষন ধরনের উত্তেজনায় ভরপুর।

টমাস শেলবির যুদ্ধের ট্রমার সাথে যুদ্ধ, শেলবি পরিবারের ভিতরের অস্থিরতা, আর বিভিন্ন গ্যাং দের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ… এসব নিয়েই আবর্তিত সিরিজের কাহিনী।

সিরিজ যত গভীরে যায়, তত যেন উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাজনীতির কূটচাল সাথে মুখোমুখি ঔদ্ধত্যপূর্ণ পিকি ব্লাইন্ডারসের যুদ্ধ,  সবসময় আগ্রহ টা ধরে রাখে।

টমাস শেলবির চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিলিয়ান মারফি এবং উনি ছাড়া বোধহয় না অন্যকেউ এই চরিত্র এতো অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতো।

 

ঠান্ডা চোখের চাহনি, সংলাপ ছুঁড়ে দেয়ার ভঙ্গিমা এমনকি সিগারেট ধরবার ধরনটাও ( সিগারেট ইজ ইনজুরিয়াস টু হেলথ) এত ব্যক্তিত্বপূর্ন, শুধুমাত্র কিলিয়ান মারফির জন্যই এই সিরিজ  দেখতে দেখতে পর্দার সাথে সেঁটে যাবেন।

ও হা, টম হার্ডি ও আছেন ইহুদী গ্যাং এর লিডার হিসেবে।

পর্দার যতক্ষণ টম হার্ডির উপস্থিতি থাকবে কিলিয়ান মারফির সাথে, মনে হবে অভিনয় প্রতিভার সুপারনোভা হচ্ছে!

মজা না, সত্যি।

ওহ, হা, চতুর্থ সিজনে ইটালিয়ান মাফিয়া এর লিডার হিসেবে এসেছেন এড্রিয়ান ব্রডি। সম্ভবত,  রিলিজ হওয়া ৪ টা সিজনের মধ্যে, সবথেকে সেরা , এই সিজন ৪।

বললাম না, যত্ত এগোয়,  ততো উত্তেজনাময় এই সিরিজ।

আর আরেকটি অসাধারন দিক এই সিরিজের মিউজিক।

একদম শুরুতে কয়টা ইংরেজি লাইন দেখলেন না? সেটা এই সিরিজের ওপেনিং থিম সং, গানের নাম ‘রেড রাইট হ্যান্ড’।

অসামান্য সিনেমাটোগ্রাফির সাথে দারুন উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনী,  আরো আছে অসাধারন মিউজিক।

৪ টা সিজনের এক ঘন্টা করে মোট ২৪ টা এপিসোড যে কিভাবে শেষ হয়ে যাবে, বুঝেই উঠতে পারবেন না।

যদি দেখা না হয়ে থাকে, তবে বসে পড়ুন ইতিহাস ঘেঁষা এই সিরিজটি নিয়ে।

যদি দেখা হয়, তাহলে আবার দেখুন।

….বাই দ্যা অর্ডার অফ দ্যা পিকি ফুকিং ব্লাইন্ডারস!!!