Silicon Valley- প্রযুক্তিতে মোড়ানো স্বপ্নের গল্প

হিউলেট এন্ড প্যাকার্ড এর পালো আল্টো তে বিজনেস শুরু করার মাধ্যমে, যাত্রা শুরু হয়, একচুয়াল সিলিকন ভ্যালির। যেটা স্যান হোসে, আমেরিকাতে।
গুগুল, টুইটার, ফেসবুক এইসব কোম্পানির উপস্থিতি যে এলাকার নেট ওয়ার্থ বানিয়েছে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, সেই এলাকায় আমাদের  সিরিজ,  সিলিকন ভ্যালির প্রোটাগনিস্টদের বসবাস।

সিরিজ রিচার্ড এর ডাটা কম্প্রেসন আলগরিদম নিয়ে, যেটার উপর বেস করে রিচার্ড, সিরিজের প্রোটাগনিস্ট, কোম্পানি খুলে, পাইড পাইপার নামের।

তো, এই কোম্পানির চলার পথ নিয়েই এই সিরিজ।
তো ক্যারেকটার গুলা, মোস্ট ইমপরট্যান্ট এবং ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার কোনগুলা?

রিচার্ড – 
পাইড পাইপার এর স্বপ্নদ্রষ্টা। রেভ্যুলশনারি ডাটা কম্প্রেসন আলগরিদম টা ওর বানানো।
ও কোম্পানির সি ই ও, কিন্তু  ডিসিশন মেকিং এবিলিটি ভয়াবহ, নেতৃত্ব দেয়ার এবিলিটি নাই, কোম্পানি নিয়া কোন ভিশন নাই।
ভুল স্টেপ নেয়ার কারনে অনেক বার পাইড পাইপার এক্সটিংশন এর কাছাকাছি চলে যায়।
ওরে যেভাবে ডেসক্রাইব করা যায় এক লাইনে, উদ্দেশ্য ভাল, এক্সিকিউশন ভয়াবহ ধরনের খারাপ।
ক্যারেকটার টার ছটফট করা, কথা বলার ধরন, আমার কাছে মাঝে মাঝে বিরক্তিকর লাগে, খানিকটা না, বেশ খানিকটা বিরক্তি।

.

.

.

জ্যারেড ( দ্যা গাই হু ফাকস)-
সিলিকন ভ্যালি সিরিজের, আমার কাছে সেকেন্ড মোস্ট ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার।  এই ক্যারেকটার টার একচুয়ালি ভিশন আছে, প্লাস পাইড পাইপার কোম্পানির জন্য জান প্রান দিয়ে খাটে।
এই সিরিজ টাকে ইন্টারেস্টিং বানানোর পিছনে এই জ্যারেড চরিত্র টার অভিনয় অনেকখানি দায়ী।

.

গিলফয়েল-
আমার ফেভারিট স্যাটানিস্ট। মানেহ, এই লোকটা এত শান্ত স্বরে ইনসাল্ট করতে পারে,  এত ভাবলেশহীন ভাবে, অনুকরণীয় বলা যায়। যাদের ইনসাল্ট করা পছন্দের তাদের জন্য আর কি।
গিলফয়েল আর দিনেশ এর খুনসুটি, রানিং জোক এই শো এর। টু বি অনেস্ট, সিরিজ টার সফলতার জন্য অনেকাংশে কৃতিত্ব এই গিলফয়েল আর দিনেশ জুটির।

.

দিনেশ-
গিলফয়েল এর আর্চ এনেমি ভাবে নিজেকে।  নিজেকে গিলফয়েল এর থেকে বেশি পারদর্শী প্রমাণ করার জন্য প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকে এবং প্রতিনিয়ত জোস টাইপের ইনসাল্টের শিকার হয়।  ও হা, পাকিস্তানি এই তরুন কোডার কিন্তু সবসময় ভালবাসার খোঁজে থাকে এবং বার বার হৃদয় ভাঙ্গে, নানান কারনে।

.

.

বিগহেড –
রিচার্ডের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু বেচারা সহজ সরল মানুষ, একেবারেই গোবেচারা।
ঘটনাক্রমে  বার বার ভাল পজিশনে থাকে,সেই ভাল পজিশনের কারনে সবাই ওকে ব্যবহার করতে চায়। ধবধবে সাদা মনের মানুষ বলা যায় ওকে।
এই চরিত্রটার রূপায়ন অনেক কুশলতার সাথে করা হয়েছে আর আমার পছন্দের তালিকায়, তৃতীয়।
এই চরিত্রের উপস্থিতি মানেই হাসির কোন মুহুর্ত থাকবে।
এনজয়েবল ক্যারেকটার।

গ্যাভিন বেলসন –
পাইড পাইপারের আর্চ এনেমি এবং  হুলি,  যে কোম্পানিতে রিচার্ড আগে জব করতো, সেই কোম্পানির সি ই ও।
প্রতিনিয়ত খোঁজে থাকে কিভাবে পাইড পাইপারকে বাংলা বাঁশ দিতে পারবে এবং প্রথমে সফল মনে হলেও
পরে দেখা যায় গ্যাভিন ই বড় ধরনের বাঁশ খেয়ে যায়।
মানেহ, পাইড পাইপারকে মার্কেট থেকে সরানোর জন্য সব ই করে, এই গ্যাভিন বেলসন।
পাইড পাইপার যদি ব্যাটম্যান হয় তবে গ্যাভিন বেলসন, জোকার।

.

আরলিখ বাকম্যান –
সেভড বেস্ট ফর দ্যা লাস্ট!
এই সিরিজের সব থেকে জোস আর ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার এই বাকম্যান।
টি. জে মিলার এই চরিত্র টা এত অসাধারন ভাবে রূপায়ন করেছে, মনেই হয় ও আর বাকম্যান কোন অংশে আলাদা।
বিশেষ করে আস্তে আস্তে হেঁটে ভুড়ি থামিয়ে ভুরু উঁচিয়ে ডায়লগ থ্রোয়িং, বেশি জোস।
আপাতদৃষ্টি তে সুযোগসন্ধানী, অর্থলোভী এই বাকম্যান আসলে যে অর্থলোভীর থেকে বেশি কিছু, তা বোঝা যায় ধীরে ধীরে।
এই বাকম্যানের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট টাই অনেক বেশি জোস ভাবে অগ্রসর হয়,  সিরিজের বয়স বাড়ার সাথে সাথে।
আরো কতগুলা ক্যারেকটার আছে, মনিকা, লরি, জিন-ইয়াং… আমার কাছে, সেগুলা মাইনর ক্যারেকটার লাগে।

সিরিজ টার পঞ্চম সিজন চলছে, ১০ এপিসোডের মধ্যে ৬ টা এয়ার হয়ে গেসে।

প্রথম ৩ টা সিজন,  অনেক গুলো হো হো করে হেসে ওঠার মোমেন্ট আছে।
পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ড এর হাসি নাই, বাংলা/হিন্দি সিরিয়ালে যে অসহ্যকর বিরক্তিকর ফানি মিউজিক দিবে কমেডিক মোমেন্টে, সেগুলা নাই।
জাস্ট,  টাইমিং, আর একটিং।

সম্ভবত একটা স্টার্ট আপ এর বাস্তব চিত্র দেখাতে চেয়েছে সিলিকন ভ্যালি।
উদ্যোক্তা  দের কত ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তার সাথে বাইরের দুনিয়ার মানুষদের পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য চেষ্টা ছিল, এই সিরিজের।
সিজন ফোর থেকে নতুন আইডিয়ার পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো, ডি-সেন্ট্রালাইজড ইন্টারনেট।
কি এটা?
সহজভাষায়, সবারজন্য ইন্টারনেট।

গ্যাভিন বেলসন কেকে এন্টাগনিস্ট হিসেবে দেখানোর জন্য বার বার যেভাবে আনা হয়, আমার কাছে অনেকটা ফোর্সড লাগ, খানিকটা দৃষ্টিকটু।

আর যার জন্য শো টা সব থেকে ভাল লাগত, আরলিখ বাকম্যান,  ১০ পারসেন্ট ওউনার অফ পাইড পাইপার, ও ই নাই সিজন ৫ এ।
যার জন্য সিজন ৫ অনেকটাই পথহারা লাগছে, আমার কাছে।
এই সিরিজ টা সবার জন্য, শুধু টেকনোলজি গীক,  কম্পিউটার নার্ড দের জন্য না। সিলিকন ভ্যালির ভিতরের চিত্র ঠিক কতটুকু উঠে এসেছে জানি না, কিন্তু খানিকটা ধারনা তো অবশ্যই পাওয়া যাবে, এবং মোস্ট ইন্টারেস্টিং, ফানি ওয়েতে।
সিরিজ টা খানিকটা এডিক্টিভ। যদিও এখন, পঞ্চম সিজন টা আলু ছাড়া কাচ্চি লাগে বাকম্যান কে ছাড়া।

জিন -ইয়াং এর সাথে বাকম্যান এর খুনসুটি এনজয়েবল ছিল, বাট হঠাৎ করে ওকে জিনিয়াস,  ইভিল দেখানোর প্রয়াস দেখানোর চেষ্টা কি প্লটের অভাবে???

কিন্তু সব মিলিয়ে, সব চরিত্রের অভিনয়, টাইমিং, সিনেমাটোগ্রাফি ইত্যাদি সব মিলিয়ে  রিকমেন্ডেড  এই সিরিজ।
একটা স্টার্ট আপ,  নিজের এত রাত জাগা  কষ্ট যদি ধ্বংসের কাছাকাছি যায়, তবে কেমন পরিস্থিতি হবে?
সেই পরিস্থিতি বেশ কয়েকবার এসেছে পাইড পাইপার এর।
টাকার অভাব, কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাব, কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, গ্যাভিন বেলসনের আগ্রাসন… বেশ কিছু কারনে পাইড পাইপার এসেছিল ধ্বংসের মুখে।
কোন না কোন ভাবে পাইড পাইপার বেঁচে ফিরে ব্যাংক কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষনার থেকে।
সেই যাত্রা টা কেমন, সেই যাত্রা টার অভিজ্ঞতার লেশ পেতে হলেও সিরিজ টা দেখা প্রয়োজন।
ভীতিকর, উত্তেজনাময় এক যাত্রা।  এই যাত্রায় স্বাগতম!

হ্যাপি ওয়াচিং

Tagged , , , , , , , , , ,